প্রায় এক সপ্তাহের অপেক্ষার পর দেশে ফিরল জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপঙ্কর দাস দ্বীপের মরদেহ। বুধবার ভোরে মরদেহ নিয়ে সিলেটের গোপালটিলায় পৌঁছালে তার বাড়ির সামনে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছেলের মরদেহ সামনে পেয়ে ভেঙে পড়েন মা–বাবা, স্বজনসহ এলাকার মানুষ।
গোপালটিলায় নির্মিত বেদীতে কফিন রাখা হলে সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। সবার অনুরোধে মুহূর্তের জন্য কফিন উন্মুক্ত করা হলে আরও বাড়ে আহাজারি। দ্বীপের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, অল্প বয়সেই দ্বীপ হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় মুখ। নিজের হাসিতে মানুষকে হাসানোই ছিল তার নেশা। অমায়িক ব্যবহার, বড়দের প্রতি গভীর সম্মান আর ছোটদের প্রতি স্নেহ—সব মিলিয়ে মাত্র ২১ বছরেই তিনি জয় করেছিলেন সবার হৃদয়।
জকিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ বিভিন্ন স্থান থেকেও ভক্তরা ছুটে আসেন তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। পরিবার ও এলাকাবাসী দ্বীপের বিষয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পরে সিলেট থেকে মরদেহ নেওয়া হয় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুড়ি গ্রামে। সেখানেও ভক্ত-স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। দুপুর একটার দিকে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় দ্বীপের মরদেহ। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। উচ্চশিক্ষার জন্য মাত্র এক মাস আগে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বীপ ছিলেন বড়।