June 3, 2026, 1:18 pm
শিরোনাম :
ট্রাইব্রেকারে খাদিম প্যানেলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন এ-সেভেন এক্স শিবগঞ্জ জৈন্তাপুরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কেন্দুয়ায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জয়তুন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ আমেরিকায় সিলেটী সাংবাদিক ফররুখ চৌধুরীর দুই ছেলের কৃতিত্ব পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নেত্রকোণায় কম্পোস্ট সার তৈরির কর্মশালা: নিরাপদ খাদ্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জোর সিলেটে চিত্রনায়িকা শাবনুরের বাবা খুন: খালাস পেলেন ইলিয়াস আলী, ফখরুল ইসলাম ফারুক সহ সব আসামি সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শুভেচ্ছা দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের অভিনন্দন

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন: অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা মিয়া

Reporter Name

 

বৃটিশদের প্রায় দুইশত বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং পাকিস্তানের চব্বিশ বছরের বৈষম্য মুক্তি পাওয়ার জন্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠী যখনই সীমালঙ্ঘন করেছে, তখনই প্রকৃতি শক্তিশালী সীমালঙ্ঘনকারী গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার জন্য বিপরীত আদর্শের রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে বাঙালি মুসলিম সমাজ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু বাঙালি সমাজের স্বাধীকারের চেতনা জাগ্রত হয়ে সার্বভৌম স্বাধীনতার বিকাশের আলোকেই স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পরপরই শাসন গোষ্ঠী পূর্বের রাজনৈতিক ওয়াদা চরমভাবে ভঙ্গ করে নতুন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর বিকাশ ঘটায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল ছয় দফা কর্মসূচী। যার দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়ে ছাত্র-জনতা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। যার মধ্যে ছিল সংসদীয় গণতন্ত্র, বৈষম্যমুক্ত সামাজিক সাম্য, ন্যায় বিচার এবং মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। পাকিস্তান আমলে ২৪টি বছর বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং সার্বভৌম সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন করেছিলেন, সেই অভিসংবাদীত নেতা স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসদীয় গণতন্ত্রসহ ছয় দফা কর্মসূচীকে নিজ হাতে গলাটিপে হত্যা করে দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং চরম বৈষম্যের সূচনা করেন। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী যে বৈষম্য মূলক আচরণ বাঙালিদের প্রতি করেছিলেন, সেই একই রাজনৈতিক বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এর ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগকে গণমুখী করার পরিবর্তে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিভাগের প্রতিটি স্তরে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং লুটপাটের নীতি কায়েম করা হয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি এবং প্রাইভেট সেক্টরে সমাজের বিশেষ মহলকে দূর্নীতি এবং হরিলুটের মহা সুযোগ সুবিধা ভোগ করার সুযোগ করে দেয়া হয়। রক্ষী বাহিনী এবং মুজিব বাহিনীর সদস্যদেরকে সীমাহীন দুর্নীতি, দখলবাজ এবং

ধর্ষণের বৈধতা দেয়া হয়েছিল। তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার কোন সুযোগ ছিল না। কবি আব্দুল হাই শিকদারের তথ্য মতে ১৯৭২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনারে ২০০ মেয়েকে মুজিব বাহিনীর ক্যাডারগণ ধর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই ঘৃণ্য অমানবিক অপরাধের কোন বিচার শেখ মুজিব করেন নাই।

৭১এর পর এক শোষক গোষ্ঠীর পতন হওয়ার সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় সহযোগীতায় নতুন রুপে, নতুন আঙ্গিকে আরেক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এই গোষ্ঠীই রাষ্ট্র ও সমাজের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগকারী টেকসই গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। যারা ছলে, বলে, কৌশলে রাজনৈতিক শক্তি এবং রাষ্ট্র যন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। এই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠী সরকারি, বেসরকারি এবং প্রাইভেট সেক্টরের প্রত্যেকটা স্তরে দূর্নীতির মাধ্যমে শক্তিশালী প্রভাব সৃষ্টি করে দূর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, লুন্ঠন এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভিটে, মাটিসহ সকল সম্পদ আত্মসাৎ করে নিজেরা শূন্য থেকে শতশত কোটি, তার থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। এই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে যখন সমাজের ভূক্ত ভোগীগণ আইনের শাসনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ার সকল পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রকৃতি তার নিজস্ব গতিতে, নিজস্ব সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে মহাবিপর্যয়ের আগমন ঘটাতে বাধ্য হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুরক্ষিত সকল পন্থাকে ধ্বংস করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরেক শোষক গোষ্ঠীর আগমন ঘটে। কিন্তু তারপরও সাধারণ জনগণ, সাধারণ সৈনিকগণ এবং ভূক্তভোগীগণ সকল ষড়যন্ত্র ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীর চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে ৭ই নভেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমানকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেন জিয়াউর রহমান এবং রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটে। কিন্তু তাও বেশিদিন স্থায়ী হয় নাই। পূর্বের ন্যায় নতুন রুপে নতুন আঙ্গিকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের চক্র সক্রিয় হতে থাকে এবং এই দুর্বৃত্তায়ন চক্রটি পূর্বের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর সুবিধা ভোগীদের মাইনাস করে তাদের ন্যায়, নিজেরাই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। ফলে রাষ্ট্রের সকল স্তরে পূর্বের ন্যায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন ও আত্মসাৎ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হতে থাকে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠী রাজনৈতিক ব্যানারে, রাজনৈতিক সহযোগীতায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন, আত্মসাৎ, সংখ্যালঘুর সম্পত্তি জোর করে দখল করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে তালিকাভূক্ত করাসহ দখলবাজ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং সিন্ডিকেটবাদকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় সহযোগীতায় একই অপকর্ম সমূহ অব্যাহত রাখা হয় এবং বৈধতা দেয়া হয়। পার্থক্য শুধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পরিবর্তন হয় কিন্তু অপকর্ম সমূহ বন্ধ হয় না। এক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর পরিবর্তে আরেক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর আগমন ঘটে এবং তাদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী রাজনৈতিক ব্যানারে তাদেরকে সুরক্ষা আইনের অন্তর্ভুক্ত করেন। ফলে দেশের সাধারণ জনগণ এবং ভূক্ত ভোগীগণ আইনের শাসনের সুফল ভোগ করতে পারে নাই। বরাবরই স্পষ্টভাবে আইন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিএনপির শাসনামলের পতন ঘটিয়ে ১৯৮২ সালে জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেন এবং তিনি কিছু দিন স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও পরবর্তীতে এরশাদ সরকারও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর জালে আবদ্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত যারা রাজনৈতিক রং পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে চক্রে সম্পৃক্ত ছিলেন, এরশাদের সামরিক শাসন জারির কারণে তাদের একটি অংশের পতন হলেও তাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের পতন হয় নাই। তাদের অপকর্মের বৈধতা দেয়ার জন্য আরেকটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবরণে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠীর আগমন ঘটে এবং যারা পূর্বের অপকর্ম সমূহের রাজনৈতিক ব্যানারে রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নতুন ভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গোষ্ঠী রাষ্ট্রশক্তির অংশিদার হয়ে যায়। যারা রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দূর্নীতির বীজ বপন করেছে। দুর্নীতির এই বীজ বপনের মাধ্যমে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রাইভেট সেক্টরকে সীমাহীন দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়া হয়। সীমাহীন দুর্নীতি এবং অপকর্মের সীমালঙ্ঘনের কারণে ১৯৯০ এর ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব আরোহন করে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ৯০এর গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধ্বংস করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন আবার নতুন রুপে নতুন আঙ্গিকে গডফাদার পরিবর্তনের মাধ্যমে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুনীতিবাজ এবং সিন্ডিকেটবাদের দৌরাত্ম পূর্বের ন্যায় স্বক্রিয় হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ জনস্বার্থের পরিবর্তে গোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষায় সম্পৃক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে রাষ্ট্রের সরকার প্রধানের নির্বাহী ক্ষমতা গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হরিলুটের রাজত্ব কায়েম হয়। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। সকল ক্ষেত্রে অরাজকতা বিকশিত হতে থাকে। ফলে বিএনপি সরকার নির্বাচনে হেরে য়ায় এবং আওয়ামী লীগ সনকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করার সাথে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে অরাজকতা সৃষ্টি হতে বাধ্য হয়। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটে, তদস্থলে বিএনপি জোট সরকারের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেন। কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অবস্থাও পূর্বের ন্যায় কলংকিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সমূহ বিকশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব না হওয়ার কারণে সরকারের পতন ঘটে। রাজনৈতিক চরম সহিংসতার মধ্যে রাষ্ট্র ক্ষমতায় মঈন উদ্দিন এবং ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের সরকার ক্ষমতায় আরোহন করে দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক প্রধান নেতৃত্বসহ রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার গডফাদারদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হন।

ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ছিল ১১ জানুয়ারী, ২০০৭ থেকে ৬ জানুয়ারী, ২০০৯ সাল পর্যন্ত। এই সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল এবং পরবর্তীতে একটি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

 

ফখরুদ্দীন আহমদ ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সরকার ১৩ জন উপদেষ্টা নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই সরকার প্রায় দুই বছর দেশ পরিচালনা করে এবং ২৯শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়লাভ করে এবং ৬ই জানুয়ারি, ২০০৯ সালে নবনির্বাচিত জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।

রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ জোট সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় এবং চরম রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কর্মকান্ডের সূচনা করেন। দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডার বাণিজ্য, বিডিআর হত্যা, শাপলা গণহত্যা, আয়নাঘর এবং সিন্ডিকেটবাদের মাধ্যমে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। দেশের আর্থিক খাতের ব্যাংক, বীমা কোম্পানি গুলোর অর্থ লুটসহ লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আত্মসাৎ করা হয়। রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদ, লুটপাট এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিগত ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যায়। অবশেষে পহেল জুলাই ২০২৪, কোটা বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৩৬ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রক্তাক্ত ৩৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ছাত্র জনতা শেখ হাসিনাকে পতিত স্বৈরাচার উপাধি দিয়েছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সাথে তার মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যসহ তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীগণ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলগণও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

৩৬ জুলাই বিপ্লব/২৪ কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ করে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে যে রাজনৈতিক চেতনার যে বিকাশ হয়েছে, যা আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে আত্মবিশ্বাসের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। শিক্ষার্থী সমাজের রাজনৈতিক বিকাশের সাথে শিক্ষার্থীদের বাহিরেও তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ভাবনায় অভাবনীয় রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটেছে। এই দুই তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক বিকাশই আগামীর ভোটের রাজনীতির গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। নব্য রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সরকারি বেসরকারি গোষ্ঠী যতই শক্তিশালী হোক না কেন? তারুণ্যের চেতনাই তাদেরকে ধ্বংস করে দিবে, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সকল সিন্ডিকেটমুক্ত রাজনৈতিক এবং তারুণ্যের চেতনাই ভবিষ্যত বাংলাদেশের ভিত্তি মজবুত করণে মূখ্য ভূমিকা পালন করবে। তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যত বাংলাদেশের মূল কান্ডারী। তাই ৩৬ জুলাই বিপ্লবই বাংলাদেশের তারুণ্যের চেতনার মূল স্তম্ভ।

 

লেখক: শিক্ষাবিদ ও এনজিও ব্যক্তিত্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা