August 6, 2026, 4:20 pm
শিরোনাম :
র‍্যাব-৯ এর অভিযানে জৈন্তাপুরের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে গোয়াইনঘাটে পুজা উদযাপন ফ্রন্টের মতবিনিময় সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা গোয়াইনঘাটে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন গোয়াইনঘাটে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জকিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন গোয়াইনঘাট উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনে শুক্রবার মতবিনিময় সভা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ওসমানীনগরে নারীকে হুমকি-ধাক্কাধাক্কির অভিযোগে দুই নারী গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ জৈন্তাপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন পর্তুগাল প্রবাসী ইকরাম উদ্দিনকে গোটাটিকর ব্রাদার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা সিন্ডিকেটে জিম্মি

Reporter Name

গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট এখন চরমে। খুচরা বাজারে এই সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে বেড়ে কোথাও কোথাও ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার কিনতে করতে পারছেন না ভোক্তারা।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খুচরা পর্যায়ের কিছু বিক্রেতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ না করে মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে করে রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

পরিবেশকরা বলছেন, তারা কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদার তুলনায় গ্যাস পাচ্ছেন খুব সামান্য। কোনো কোনো পরিবেশক সিলিন্ডারই পাচ্ছেন না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সংকটের কোনো বাস্তব কারণ নেই।

 

নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা বক্কর মিয়া জানান, ‘দোকানগুলোতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে বলে জানায়।’

 

বন্দরবাজার এলাকার একাধিক এলপিজি ডিলার বলেন, ‘দৈনিক চাহিদার তুলনায় আমরা সরবরাহ পাচ্ছি অর্ধেকেরও কম। এতে আমাদের পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গত ৩১ ডিসেম্বরও একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ এখন খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ করার মতো একটা সিলিন্ডার আমাদের কাছে নেই।’

 

এই সরবরাহ সংকটের চাপ গিয়ে পড়েছে ভোক্তার ওপর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারই সংকটের কেন্দ্রে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

 

আম্বরখানার একটি দোকান থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকায় কিনেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মোতাহার হেসেন। তিনি বলেন, ‘সকালে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কয়েক দোকানে ফোন করে সিলিন্ডার পাইনি। অনেক দোকানে নেই, আবার অনেক দোকান দ্বিগুণ দাম চায়। পরে বাধ্য হয়ে এক দোকান থেকে ২ হাজার টাকায় কিনেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা- সরকার নির্ধারিত মূল্যের কথা বললে, ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছ থেকে নিয়ে আসতে বলে। দ্রæত সংকট নিরসন ও নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন এই গ্রাহক।’

 

এলপিজি পরিবেশক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত রেখেছে। ট্রাক গিয়ে বসে থাকছে, খরচ বাড়ছে। তবে সরকারিভাবে দাম সমন্বয়ের আগে খুচরা পর্যায়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়তি নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।’

 

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

 

সূত্র : আজকের সিলেট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা